মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার প্রয়োজনীয়তা-বাংলা প্রবন্ধ রচনা | Matri Bhasai Bigyancharcher Proyojoniota

Matri Bhasai Bigyancharcher Proyojoniota

Last Updated on April 4, 2025 by Shiksha Diksha

মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার প্রয়োজনীয়তা (Matri Bhasai Bigyancharcher Proyojoniota)

আজকের প্রতিবেদনে আমরা নিয়ে চলে এসেছি এক গুরুত্বপূর্ণ বাংলা প্রবন্ধ রচনা ” মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার প্রয়োজনীয়তা (Matri Bhasai Bigyancharcher Proyojoniota)” । বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রবন্ধ রচনা খুবই গুরুত্বপুর্ণ। তাই এই পোস্টে ” মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার প্রয়োজনীয়তা (Matri Bhasai Bigyancharcher Proyojoniota)” রচনাটি দিলাম। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই রচনাটি প্র্যাকটিস করে নিতে পারো। বাংলা বিষয়ের প্রবন্ধ রচনার (Bangla Probondho Rochona) আরও লিঙ্ক নীচে দেওয়া আছে।


রচনা সূত্র: ভূমিকা-জীবনের বিকাশে মাতৃভাষার গুরুত্ব-মাতৃভাষার মাধ্যমে বিজ্ঞানচর্চা-মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার বাধা-বাধা দূরীকরণের পথ-উপসংহার।

“আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলার গান গাই আমি আমার আমিকে চিরদিন এই বাংলায় খুঁজে পাই।”

-প্রতুল মুখোপাধ্যায়

ভূমিকা:

“বিনে স্বদেশী ভাষা, পুরে কি আশা”-কবির এই কথা আমাদেরও মনের কথা। কিন্তু শিক্ষার বাহন রূপে মাতৃভাষাকে ব্যবহার করা যাবে কি না এ বিষয়ে আজ পর্যন্ত আমরা একমত হতে পারিনি। বিশেষ করে বিজ্ঞান শিক্ষায় আমাদের মাতৃভাষা বাংলার ব্যবহার নিয়ে শিক্ষিতমহল আজও দ্বিধান্বিত। বাংলা আজ একটি স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। তবুও গ্রিক, চিন, রুশ, ফরাসির মতো বিজ্ঞানচর্চায় আমাদের মনের ভাষা, অর্থাৎ প্রিয় বাংলা ভাষা ব্যবহৃত হয় না।

জীবনের বিকাশে মাতৃভাষার গুরুত্ব:



মাতৃভাষাতেই মানুষ প্রথমে মনের ভাব প্রকাশ করতে শেখে, পরে বৌদ্ধিক বিকাশও ঘটে এই ভাষার ওপর নির্ভর করেই। জীবনব্যাপী মাতৃভাষার সঙ্গে ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য বন্ধন তৈরি হয়। তাই জীবনের কোনো পর্যায়েই মাতৃভাষাকে বাদ দেওয়া যায় না। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘শিক্ষাচিন্তা’-য় বলেছেন- “যথাযোগ্যভাবে মাতৃভাষায় শিক্ষাদানই সব শিক্ষার ভিত্তি। কারণ, মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি ও মনোহর ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ বহুলাংশে এরই ওপর নির্ভর করে।”

মাতৃভাষার মাধ্যমে বিজ্ঞানচর্চা:

বিজ্ঞান আশৈশব মানুষকে আঁকড়ে রেখেছে। বর্তমান মানবজীবনকে বিজ্ঞান-বিযুক্ত ভাবাই যায় না। আবার, দুরূহ বিষয়কে সহজ ও প্রাঞ্জল করে উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে মাতৃভাষার কোনো বিকল্প নেই। বিজ্ঞানের উচ্চ পর্যায়ের গবেষণা ও চর্চার ক্ষেত্রে মাতৃভাষাকে মাধ্যম করা হলে বিজ্ঞানের জটিলতা অনেকাংশে দূর হবে। ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে যেখানে ধর্ম ও কুসংস্কার বদ্ধমূল হয়ে আছে, সেখানে বিজ্ঞানের প্রচার, বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা, বক্তব্য রাখা প্রভৃতি মাতৃভাষাতেই হওয়া দরকার। তবেই বিজ্ঞান চেতনা-নির্ভর হয়ে মানুষের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করবে।

মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চায় বাধা:

দেশবিদেশের বিজ্ঞানচর্চা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইংরেজি ভাষায় সম্পন্ন হয়, তাই বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা উপেক্ষিত। সহজ-সরল বাংলায় বিজ্ঞানের জটিল বিষয়কে উপস্থাপিত করার মতো আগ্রহ আমাদের দেশে খুব কমই দেখা যায়। অনেকেই মনে করে বিজ্ঞানের গুরুগম্ভীর বিষয় প্রকাশে বাংলা ভাষা অনুপযুক্ত। বিজ্ঞানের পরিভাষার অভাব মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার সবচেয়ে বড়ো বাধা। আবার, অনেকের মতে, মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

বাধা দূরীকরণের পথ:

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা করে উজ্জ্বল কৃতিত্ব দেখিয়েছেন রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, জগদীশচন্দ্র বসুর মতো মনীষীরা। তাঁদের পথ অনুসরণ করে মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা ধারাবাহিকভাবে করতে হবে। যে সকল শব্দের পরিভাষা কঠিন ও দুরুহ সেইসব শব্দের ইংরেজি রূপকেই মাতৃভাষায় প্রকাশ করা যেতে পারে। বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে কেবল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা ভাবলেই চলবে না, অল্পশিক্ষিত মানুষজনের কাছে বিজ্ঞানকে পৌঁছে দিতে মাতৃভাষাই প্রধান মাধ্যম হওয়া উচিত। তবে উচ্চ – পর্যায়ের বিজ্ঞানচর্চার জন্য প্রয়োজনে ইংরেজিতে অনুবাদ করে নেওয়া যেতে পারে।

উপসংহার:

যে-কোনো নতুন কাজই শুরুতেই সকলের সমর্থন পায় না। দীর্ঘ লড়াই ও সদিচ্ছা ক্রিয়াশীল থাকে তাকে প্রতিষ্ঠা দানে। এক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য। বাধা যেমন রয়েছে তেমনি পথও বেরোবে। আর সেই পথ দিয়ে বাংলা ভাষা হয়ে উঠবে বিজ্ঞানচর্চার অন্যতম মাধ্যম।

আমাদের পোষ্টের লেটেস্ট আপডেট পেতে আমাদের Whatsapp Channel , Facebook Page জয়েন করুন এবং Telegram Channel জয়েন করুন।

WhatsApp Channel Follow
Telegram Channel Join Now
Facebook Page Follow

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *