Poribesh Surokshya Chatrachatrider bhumika Bangla Probondho

পরিবেশ সুরক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকাঃ বাংলা প্রবন্ধ | Bangla Probondho Rochona

পরিবেশ সুরক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা (Bangla Probondho)

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বাংলা প্রবন্ধ রচনা দেওয়া হলো। ” পরিবেশ সুরক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা: বাংলা প্রবন্ধ রচনা (Poribesh Surokshya Chatrachatrider bhumika Bangla Probondho)” । রচনা সূত্র নিচে দেওয়া আছে এবং প্রতিটি পয়েন্ট ব্যাখ্যা করা আছে।

রচনা সূত্র: ভূমিকা-প্রাকৃতিক পরিবেশদূষণ ও তার প্রভাব-পরিবেশ সুরক্ষিতকরণে ছাত্রছাত্রীর ভূমিকা-মানসিক দূষণ ও পরিবেশে তার প্রভাব-মানসিক দূষণ থেকে পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রছাত্রীরা-উপসংহার।

“ছাত্রজীবনের উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষা পাশ ও স্বর্ণপদক লাভ নহে-

দেশসেবার জন্য প্রাণের সম্পদ ও যোগ্যতা অর্জন করা।”

-সুভাষচন্দ্র বসু

⬕ ভূমিকা :

সমাজ তথা দেশকে সমৃদ্ধির প্রকৃত পথের ঠিকানা জানতে পারে ছাত্রসমাজ। তারাই ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। দেশের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হওয়া দরকার, আর তার জন্য প্রয়োজন সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ। আমাদের এই নবীন প্রজন্মই যেহেতু অসীম উদ্দীপনা ও প্রাণপ্রাচুর্যের ভাণ্ডার তাই নিজের যোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার ভারও তার ওপরেই বর্তায়।

⬕ প্রাকৃতিক পরিবেশদূষণ ও তার প্রভাব:

আদিম যুগে মানুষ পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে চলত। তখন দূষণের এত বাড়বাড়ন্তও ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে সভ্যতা যত উন্নত হতে শুরু করে ততই বাতাস, জল, মাটি সবকিছু দূষিত হতে থাকে। মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যাবৃদ্ধি ও সে কারণে ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা বৃদ্ধি, নানাবিধ বর্জ্যপদার্থ ও কীটনাশকের নদী-সমুদ্রের জলে মেশা; কলকারখানা, তৈলচালিত যন্ত্রপাতি-যানবাহন নিঃসৃত ধোঁয়ার মধ্যে থাকা ক্ষতিকারক গ্যাসের বাতাসে মেশা; অত্যধিক হারে বৃক্ষচ্ছেদন, খনিজপদার্থ উত্তোলন পরিবেশের বিবিধ অংশকে যথেচ্ছভাবে দূষিত করে। এ ছাড়া বিভিন্ন যন্ত্র তথা যানবাহনের আওয়াজ দূষিত করছে শব্দকে। ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণকে মৃত্তিকা দূষণ, জলদূষণের ফলে বিভিন্ন মারণব্যাধি সৃষ্টি হচ্ছে, এমনকি বিকলাঙ্গ সন্তান জন্মের হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে-পৃথিবী মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে।

⬕ পরিবেশ সুরক্ষিতকরণে ছাত্রছাত্রীর ভূমিকা:

ছাত্রসমাজই হল আমাদের সমাজে শক্তির অন্যতম মূল আধার। তারাই পারে জনমানসে পরিবেশদূষণের কুফল বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে। আর পরিবেশদূষণের ক্ষতিকারক দিক বিষয়ে সাধারণ মানুষ অবগত হলে তবেই তারা নিজেদের ক্রিয়াকলাপে রাশ টেনে সচেতন হয়ে দূষণের পরিমাণ হ্রাস করার কথা ভাববে। তা ছাড়া দূষণরোধের জন্য যথেচ্ছ মাত্রায় বৃক্ষরোপণও প্রয়োজন। গাছ কাটা বন্ধ করে বৃক্ষরোপণে প্ররোচিত করা এবং সেই সঙ্গে নিজেরাও বৃক্ষরোপণে অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়েই পৃথিবীকে আবার সবুজ সম্পদে পূর্ণ করে তুলতে আমরা সক্ষম হব।

⬕ মানসিক দূষণ ও পরিবেশে তার প্রভাব:

আগেকার সময়ে একান্নবর্তী পরিবারের আধিক্য লক্ষিত হত। তখন শিশুরা জন্মের পর যে পারিবারিক পরিকাঠামো পেত সেখানে পরিজনদের ভালোবাসা ও শাসনের মাঝে তারা বড়ো হত, যথাযথ শিক্ষায় শিক্ষিত হত। কিন্তু বর্তমানে শিশুরা জন্মানোর পর আগের মতো শিক্ষা গ্রহণের উপযুক্ত উন্মুক্ত পরিবেশের সংস্পর্শে আসতে পারে না। তাদের মনে চাপা অপরাধবোধ সৃষ্টি করতে থাকে, যা তাদের নির্জনতার দিকে ঠেলে দেয়-তারা মানসিক রোগগ্রস্তও হয়ে পড়ে। সমাজের গড্ডলিকা স্রোতে গা ভাসিয়ে তারা এমন সর্বনাশের পথে এগিয়ে যায় যে, সেখান থেকে ফিরে আসা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। এই ধরনের মানসিক বিকারগ্রস্ত পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে সমাজের কলুষতাও বাড়তে থাকে ও তা দ্রুত পতনোন্মুখ হয়ে ওঠে।

আরও দেখুনঃ প্রযুক্তির আক্রমণে বিপর্যস্ত পরিবেশ: বাংলা প্রবন্ধ রচনা | Bangla Prabandha Rochana

⬕ মানসিক দূষণ থেকে পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রছাত্রীরা:

ছাত্রছাত্রীরাই পারে পরিবেশের কুদিকগুলি সম্পর্কে সকলকে অবহিত করতে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে। পরিবারের আদর্শ, রুচিবোধ, মানসিকতা শিশুর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে তা ছাত্রছাত্রীরাই সকলের মনের গভীরে প্রবেশ করাতে পারে।

⬕ উপসংহার:

ছাত্রসমাজ ভবিষ্যৎ সমাজব্যবস্থার কারিগর। তাই তারা যদি সর্বাঙ্গীণভাবে সুস্থ, সুন্দর ও মানুষের বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার দায়িত্ব নেয় তাহলে অবশ্যই এক-না-এক সময় পরিবেশকে তারা সম্পূর্ণ রূপে সুরক্ষিত করতে পারবে। আর সুরক্ষিত ও সুস্থ পরিবেশই ভবিষ্যতের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত বন্যপ্রাণী সংলা করতে সক্ষম হবে।

আমাদের পোষ্টের লেটেস্ট আপডেট পেতে আমাদের Whatsapp Channel জয়েন করুন এবং Telegram Channel জয়েন করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top