বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming)
⬕ ভূমিকা:
সভ্যতার অগ্রগতির কঠিন ও ক্রর ফলশ্রুতি হল বিশ্ব উষ্ণায়নের অভিশাপ। দ্রুত নগরায়ন ও শিল্পায়নের হাত ধরে প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন ও নির্বিচার বৃক্ষ হননের কারণেই পৃথিবীর উষ্ণতা ক্রমবর্ধমান। উষ্ণতার এই ক্রমবর্ধমান দশায় বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং (Global Warming) নামে পরিচিত।
বায়ুমন্ডলে অবস্থিত কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, জলীয় বাষ্প প্রভৃতি গ্রিনহাউস গ্যাস প্রকৃতিতে উষ্ণতা বজায় রাখে। কিন্তু কোনোভাবে তাদের পরিমাণ বেড়ে গেলে ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপ পুনরায় ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে ও তার উষ্ণতা বাড়িয়ে তোলে। ঊনিশ থেকে বিশ শতকের মধ্যে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা গড়ে প্রায় এক ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড করে বেড়ে গেছে।
⬕ বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ:
বিজ্ঞানীরা বিশ্ব উষ্ণায়নের (Global Warming) অনেকগুলি কারণ নির্দেশ করেছেন- (১) বিবিধ জীবাশ্ম জ্বালানের দহনের কারণে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের ক্রমবৃদ্ধি, (২) শস্যক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং জৈবমল ও পচিত উদ্ভিদের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে বায়ুমন্ডলে মিথেন গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি, (৩) কৃষিক্ষেত্রে নির্বিচারে নাইট্রোজেন ব্যবহার, (৪) শিল্পক্ষেত্রে দ্রাবক, এরোসেল রেপসেন্ট, প্লাস্টিক, ফোম ও প্রত্যহিক জীবনে ঠান্ডা মেশিনগুলির ব্যবহারের ফলে ক্লোরোফ্লোরো কার্বনের পরিমাণ বৃদ্ধি, (৫) উন্নত জনজীবনের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বৃক্ষছেদনের অবশ্যম্ভাবী পরিনতি বিশ্ব উষ্ণায়ন।
⬕ বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব:
বিশ্ব উষ্ণায়নের (Global Warming) প্রভাব ভয়াবহ। এর পরিণতিতে বরফ আচ্ছাদিত পর্বত, অন্তহীন সমুদ্র, কোল্লোলিত ঝর্ণা ও নদী, হিমময় মেরুদেশ, বিস্তীর্ণ মরুরাজ্য, গভীর অরণ্য, জীবনের কলরবে মুখরিত জনপদ ক্রমেই নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ থেকে পেরুর সমুদ্রোপকূলে সৃষ্টি ‘এল- নিনো’ অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির সমস্যাকে ক্রমাগতই জটিলতার করে তুলেছে।
একটি সমীক্ষায় জানা গেছে, উত্তরমেরুর বরফ অধ্যুষিত অঞ্চলের বরফের পরিমাণ ৫.৯ মিলিয়ন বর্গমিটার থেকে ১.৯ মিলিয়ন বর্গমিটারে পর্যবসিত হয়েছে এবং অচিরেই তা সম্পূর্ণ অপসৃত হয়ে সমুদ্রে বিশাল জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হবে বলে বিজ্ঞানীরা মত প্রকাশ করেছেন। বিজ্ঞানীদের অপর অনুমান, ক্রমপ্রসারমান প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে গিয়ে শুষ্ক মরুরাশিতে পূর্ণ হয়ে যাবে সমগ্র পৃথিবী। সেই সঙ্গে বংশবৃদ্ধি ঘটবে কীটপতঙ্গের। জলের গুণগতমান কমে গিয়ে প্রাণীদের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাবে। সর্বাংশে ধ্বংস হয়ে যাবে প্রকৃতি ও পৃথিবী।
আরও দেখুনঃ ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভালোমন্দঃ প্রবন্ধ রচনা | Internet and Social Media
⬕ প্রতিরোধ ব্যবস্থা:
১৯৬৫ তে আমেরিকার বিজ্ঞানীরা প্রথম বিশ্ব উষ্ণায়নের ভয়াবহতা বিষয়ে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছেন। এই উপলক্ষে ১৯৭৯ তে জেনেভা সম্মেলন ও ২০০৭ এ অপর এক সম্মেলন আয়োজিত হয়। গভীর আলাপ-আলোচনার সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, জীবাশ্ম জ্বালানির দহন কমিয়ে, অপ্রচলিত শক্তি ও জৈবসারের ব্যবহার বাড়িয়ে, পেট্রোলিয়ামের অপচয় রোধ করে এবং সর্বোপরি নির্বিচারে বৃক্ষনিধন বন্ধ করে ও বৃক্ষসৃজন ঘটিয়ে উষ্ণায়নের মাত্রা নিঃসন্দেহে কমানো সম্ভব হবে।
⬕ উপসংহার:
শিক্ষিত, বিজ্ঞান সচেতন মানবগোষ্ঠীর সর্বাগ্রে প্রয়োজন নিজেদের মধ্যে বিশ্ব উষ্ণায়নের কুফল বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। আগামী প্রজন্মকে অবশ্যম্ভাবী ধ্বংসের অভিমুখ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশ্ববাসীকেই এগিয়ে আসতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ধর্মীয়গোষ্ঠী, সরকার- সকলকেই সাধ্যমত প্রবাসী হতে হবে। প্রয়োজনে দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপুঞ্জকেও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
Latest Posts:
- রসায়ন প্রশ্নপত্র- উচ্চমাধ্যমিক ২০২৭ তৃতীয় সেমিস্টার | HS 2027 Chemistry Question Paper Semester 3 PDF
- উচ্চমাধ্যমিক ২০২৭ সেমিস্টার ৩ ভূগোল প্রশ্নপত্র PDF | WBCHSE Class 12 Geography Sem-3 Question Paper Download
- উচ্চমাধ্যমিক ২০২৭ ইতিহাস প্রশ্নপত্র তৃতীয় সেমিস্টার | WBHS 2027 Sem-3 History Question Paper PDF Download
- বাংলা প্রশ্নপত্র-উচ্চমাধ্যমিক ২০২৭ সেমিস্টার ৩ পরীক্ষা | 2027 HS Sem-3 Bengali Question Paper PDF
- ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি (dr shyama prasad mukherjee) প্রবন্ধ রচনা | মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য




