একটি গাছ একটি প্রাণ – প্রবন্ধ রচনা | Ekti Gach Ekti Pran

Blinking Buttons WhatsApp Telegram

একটি গাছ একটি প্রাণ (Ekti Gach Ekti Pran)

একটি গাছ একটি প্রাণ (Ekti Gach Ekti Pran): প্রবন্ধ সূত্রঃ ভূমিকা-প্রাচীন ভারতবর্ষে বৃক্ষপুজা- ব্যক্তিজীবনে বৃক্ষের অবদান-নগরজীবনের প্রসার ও বৃক্ষচ্ছেদন বনভূমি সংরক্ষণ ব্যবস্থা-সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ- উপসংহার।

“বনের মন্দির মাঝে, / তরুর তম্বুরা বাজে, / অনন্তের উঠে স্তবগান,” -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূমিকা :

বিশ্বপ্রাণের মুক ধাত্রী বৃক্ষরাজি আদি অনন্তকাল ধরে সমগ্র ভূলোকের মাঝে অমৃতধারা প্রবাহিত করে প্রাণের তেজ, রস ও লাবণ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী উদ্ভিদসমূহের সঙ্গে মানবসভ্যতার নিবিড় বন্ধন তাই দ্যুলোক সৃষ্টির সমকালীন।

প্রাচীন ভারতবর্ষে বৃক্ষপূজা:

প্রাচীন ভারতবর্ষে বৃক্ষপূজার ব্যাপক প্রচলন ছিল। ফুল-ফল-ছায়া প্রদানকারী রূপে, আদিম মানুষের প্রধান আশ্রয়স্থল রূপে, প্রাণীজগতের প্রাণদায়ী বায়ুর শোধক রূপে বৃক্ষের সঙ্গে মানবজীবনের নিবিড় যোগসূত্রকে প্রাচীন ভারতবাসী পরমজ্ঞানে স্বীকার করতেন। তাই তৎকালীন সময়ে বনস্পতির সুরক্ষিতকরণের উদ্দেশ্যেই জারি করা হত বিধিনিষেধের বিজ্ঞপ্তি, বট-অশ্বত্থাদি বৃক্ষের পূজার নির্দেশাবলি।

ব্যক্তিজীবনে বৃক্ষের অবদানঃ

অর্বাচীনকালই শুধু নয়, প্রাচীনকাল থেকেই মানবজীবনে বৃক্ষের প্রয়োজন চক্রাকারে আবর্তমান। কাগজ, বস্ত্র প্রভৃতি শিল্পের কাঁচামাল সংগৃহীত হয় অরণ্যাঞ্চল থেকে; আবার গৃহনির্মাণ, গৃহস্থের আসবাবপত্রের সংস্থান, বিবিধ যানবাহন নির্মাণ শিল্পে অন্যতম কাঁচামালের জোগান মেলে শাল, সেগুন, আবলুস, মেহগনি প্রভৃতি বৃক্ষসমূহের কাষ্ঠসম্পদ থেকে। তা ছাড়া বৃক্ষজাত নানাপ্রকার পদার্থ একদিকে যেমন বহু দরিদ্র সম্প্রদায়ের জীবিকা সংগ্রহের উপায়, তেমনি অন্যদিকে উদ্ভিদলব্ধ ফল প্রাণীকুলের ক্ষুধানিবৃত্তি করে। একইভাবে বৃক্ষতল থেকে প্রাপ্ত শুষ্ক পত্রসমূহ জ্বালানি রূপে দরিদ্রের রন্ধনকক্ষকে পূর্ণতা প্রদান করে। আবার, হোগলা, গোলপাতা গৃহস্থের ছাউনিকে পূর্ণতা দান করে। বনজ সম্পদ-ধন্য ভারতবর্ষের কাষ্ঠসম্পদ বিদেশে রপ্তানিপূর্বক এই দেশের অর্থভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়। আবার, বায়ুতে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রেখে একদিকে যেমন সালোকসংশ্লেষকারী বৃক্ষরা জীবকুলের শ্বসনক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, তেমনি অন্যদিকে ধরিত্রীবক্ষে মৃত্তিকাক্ষয় নিবারণ, মৃত্তিকার রসপুষ্টি সাধন, ধরণিগর্ভে জলসম্পদের সঞ্চয় ঘটানো ও আবহাওয়ায় প্রশান্তি বিধানে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করে।

নগরজীবনের প্রসার ও বৃক্ষচ্ছেদনঃ

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বাসস্থান ও খাদ্যসংস্থান সমস্যাকে কেন্দ্র করে বহু অরণ্যাঞ্চল বর্তমানে নিশ্চিহ্ন। অরণ্যের স্থলে কোথাও গড়ে উঠেছে শহুরে সভ্যতা আবার কোথাও-বা কৃষিজমি নিজের আত্মবিস্তার ঘটিয়েছে। আন্তর্জাতিক হিসাবানুযায়ী যেখানে ৩৩.৩% বনভূমি থাকা প্রয়োজন সেখানে ভারতে তার পরিমাণ মাত্র ২৩%, যার অবশ্যস্বীকার্য ফলশ্রুতিতে প্রকোপ বেড়ে চলেছে অনাবৃষ্টির ও ক্রমান্বয়ে জালবিস্তারে সক্ষম হচ্ছে মরুভূমি।

বনভূমি সংরক্ষণ ব্যবস্থা:

বর্তমানের প্রযুক্তিবিদ্যার জয়গাথা রচনার যুগে প্রয়োজনীয় বস্তু সামগ্রীর সঙ্গে সঙ্গে বিলাসদ্রব্যের উৎপাদনের প্রয়োজনে যখন কর্তিত হচ্ছে উদ্ভিদসমাজ তখনই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষায় এ সত্যও প্রমাণিত হচ্ছে যে পৃথিবীর বক্ষদেশের রুক্ষতা দূরীভূত করে তাকে প্রাণরসে সিঞ্চিত করতে পারে অরণ্যদেবীই। তাই বর্তমানে ভারতীয় কেন্দ্রীয় তথা রাজ্য সরকার বন সংরক্ষণের অনুকূলে বহু আইন প্রণয়ন করেছেন।

সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ:

১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার সর্বপ্রথম বনমহোৎসবের আনুষ্ঠানিকভাবে সূত্রপাত ঘটায়, যা প্রতি বছর নিয়মানুসারে পালিত হয়। দেশের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ, বৃষ্টিপাতের পরিমাণে ভারসাম্য আনয়ন, ভূমিক্ষয় রোধ প্রভৃতি উদ্দেশ্যকে পাথেয় করে শুধু জাতীয় সরকারই নয় গ্রামপঞ্চায়েত, ব্লক অফিস এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থাগুলিও পথপ্রান্তে বৃক্ষরোপণ, চারা বিতরণ প্রভৃতি কর্মোদ্যোগে অংশগ্রহণ করছে।

উপসংহার:

প্রতি বছর বনমহোৎসব উপলক্ষ্যে ব্যাপক মাত্রায় চারা রোপণ করা হলেও চারাগাছগুলির সংরক্ষণ ব্যবস্থায় শৈথিল্য, তদারকি ব্যবস্থার অভাব, জলসেচন ও পরিচর্যার অভাব ইত্যাদি কারণে ২৫% গাছ নষ্ট হয়ে যায়। তাই সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষসংরক্ষণ সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন, নতুবা বনমহোৎসব নামমাত্র উৎসবে পরিণত হবে।

অনুসরণে লেখা যায় : ১। মানবজীবনে গাছের প্রভাব, ২। বৃক্ষের অবদান, ৩। প্রকৃতির অঙ্গ বৃক্ষ।

আমাদের পোষ্টের লেটেস্ট আপডেট পেতে আমাদের Whatsapp ChannelFacebook Page জয়েন করুন এবং Telegram Channel জয়েন করুন।

LATEST POSTS:

WhatsApp Channel Follow
Telegram Channel Join Now
Facebook Page Follow

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WhatsApp Telegram
Home
শিক্ষার খবর
প্রবন্ধ রচনা
মক টেস্ট